যেসব জিনিস বাসন ধোয়ার সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা ঠিক না ।

বাসন পরিষ্কার করার সাবান দিয়ে অন্য কিছু পরিষ্কার করলে নষ্টও হয়ে যেতে পারে। দামে কম, কাজ সহজ করে এবং সবসময় হাতে কাছে থাকা এই সাবানগুলো অনেক কিছু পরিষ্কারে কার্যকর হলেও, সবকিছুতে তা ব্যবহার করা উচিত নয়।

বাসন ধোয়ার এই সাবানগুলো আসলে একধরনের ডিটারজেন্ট। সাবানের সঙ্গে এর তফাৎটা হল, সাবান ময়লা ও তেলকে আবদ্ধ করে ফেলে যাতে বহমান পানিতে তা ধুয়ে যায়। অপরদিকে ডিটারজেন্ট ময়লাকে ভেঙে ফেলে যাতে যে বস্তুটি পরিষ্কার করা হচ্ছে তাতে সহজে ওই ময়লা গিয়ে বসতে না পারে।

সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্ট বেশি শক্তিশালী। আর তাই কিছু জিনিস পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ডিটারজেন্ট ক্ষতিকর হতে পারে।

গৃহস্থালী-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে জানান হল এবিষয়ে বিস্তারিত।

কাঠ: আসবাব থেকে ঘরের মেঝে পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কাঠের ব্যবহার হয়। যথেষ্ট শক্তপোক্ত হলেও পরিষ্কার পদ্ধতির ভুলে তা নষ্ট হতে পারে সহজেই। কাঠের যেকোনো কিছু পরিষ্কারের আগে ঝেড়ে নিতে হয় যাতে তার ওপর কোনো ধুলাবালির কণা না থাকে। এবার পরিষ্কারক দ্রবণে ভেজানো কাপড় দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হবে। আর সেখানো বাসন পরিষ্কারক কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না।

ডিশওয়াশার: থালা-বাসন ধোয়ার যন্ত্রে ডিশওয়াশিং সোপ দেওয়া যাবে না এ কেমন কথা হলো? বাসন ধোয়ার সাবানগুলোতে অল্পতেই প্রচুর ফেনা হয়। আর সেটাই সামলাতে পারেনা ‘ডিশওয়াশার’। তাই ডিশওয়াশার’য়ের জন্য তৈরি করা পরিষ্কারক ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যে পরিষ্কারকই ব্যবহার করুন না কেনো তা পরিমাণে বেশি ব্যবহার করলে ‘ডিশওয়াশার’য়ের আয়ু কমবে দ্রুত।

চামড়ার পণ্য: শুধু আপনার ত্বকই নয়, চামড়ার তৈরি পণ্যেরও আর্দ্রতা প্রয়োজন হয়। আর তাই চামড়ার জুতা, ব্যাগ, গাড়ির সিট, সোফা ইত্যাদির নিয়মিত যত্ন না নিয়ে চামড়ায় ফাটল ধরতে শুরু করে।

স্নিকারস বা রাবারের জুতা পরিষ্কার করতে বাসন ধোয়ার সাবান কার্যকর হলেও চামড়ার জুতার জন্য তা জঘন্য। বাসন ধোয়ার সাবান দিয়ে চামড়ার কোনো কিছুই পরিষ্কার করা যাবে না। কারণ তা চামড়ার সকল আর্দ্রতা টেনে নিয়ে চামড়াকে রুক্ষ করবে।

পোষা প্রাণীর গোসল: পোষা প্রাণীগুলো গায়ে বিভিন্ন জিনিস মেখে আসে। এছাড়াও পোষা প্রাণীর গায়ের তেল, পশম সব একত্রিত হয়েও বেশ দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে এদের গোসল করাতে কখনই বাসন ধোয়ার সাবান ব্যবহার করা উচিত হবে না। এমন নয় যে ব্যবহার করলে বিশাল কোনো কাণ্ড ঘটে যাবে, তবে বাসন ধোয়ার সাবান অত্যন্ত শক্তিশালী পরিষ্কারক হওয়ায় তা নিয়মিত ব্যবহার করতে পোষ্যের ত্বক প্রচণ্ড শুষ্ক হয়ে যাবে।

শ্যাম্পু ব্যবহার করাও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, কারণ তা মানুষের ‘পিএইচ লেভেল’য়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। পোষা প্রাণীর ত্বকে তা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই পোষা প্রাণীকে গোসল করানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো।

গাছ: গাছে পোকামাকড়ের আক্রামণ ঠেকাতে ‘ইনসেক্টিসাইডাল সোপ’ ব্যবহার করা যায়। এর খরচ কম, পরিবেশবান্ধব এবং গাছের কোনো ক্ষতি করে না। তবে খরচ আরও বাঁচানোর জন্য অনেকেই আসল ‘ইনসেক্টিসাইডাল সোপ’য়ের পরিবর্তে বাসন পরিষ্কারের সাবান ব্যবহার করেন। তবে বেশিরভাগ বাসন ধোয়ার সাবানই উদ্ভিদের জন্য অনেক বেশি শক্তিশালী আবার পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতেও অকার্যকর।

কড়াই: ঢালাই লোহার কড়াই যারা ব্যবহার করেন তারা জানেন প্রথমবার ব্যবহারের আগে কড়াইতে নন-স্টিকি ভাব আনতে এর ওপর তেলের প্রলেপ ফেলতে হয়। যত বেশি কড়াই ব্যবহার হবে, তেলের ওই প্রলেপ ততই উন্নত হবে।

বাসন ধোয়ার সাবানে সবচাইতে বড় গুণ হল তা তেলের প্রলেপ পরিষ্কার করে দ্রুত। তাই কড়াই পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বাসন ধোয়ার সাবান ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বেশিরভাগ সময় শুধু স্পঞ্জ বা ‘স্ক্রাবার’ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। মাসে একবার ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুতে পারেন। তবে সাবান দিয়ে ধোয়ার পর তা আবার তেল মাখিয়ে নিতে হবে।

আয়না: স্বচ্ছ কাচ পরিষ্কার করতে বাসন পরিষ্কার করার সাবান বেশ কার্যকর। তবে আয়না পরিষ্কারের তা ব্যবহার করলে সাবানের দাগ দূর করা দুষ্কর।

গাড়ি পরিষ্কার: গাড়ি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বাসন ধোয়ার সাবান ব্যবহার করলে রংয়ের ওপরে থাকা ‘প্রটেক্টিভ কোটিং’ নষ্ট হয়ে যায় দ্রুত। ফলে গাড়ির রং ফ্যাকাশে হবে, মরিচা পড়বে। তাই গাড়ির জন্য বিশেষ পরিষ্কারক ব্যবহার করা উচিত সবসময়।

error: Content is protected !!